গত শুক্রবার প্রকাশিত দেশটির বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যাবিষয়ক এক সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবীণদের কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকার মূল কারণ আর্থিক সংকট। বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া এ দেশে প্রবীণ নাগরিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিই এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খবর জাপান টুডে।
জাপানের এ পরিস্থিতি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে জাপানের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবীণ কর্মক্ষেত্রে থাকতে চান, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এ হার মাত্র ২৪ শতাংশ। ইউরোপের দেশগুলোয় এ সংখ্যা আরো কম। জার্মানি ও সুইডেনে মাত্র ১৯ শতাংশ প্রবীণ নাগরিক এ বয়সে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জাপানি প্রবীণদের মধ্যে যারা কাজ করতে চান তাদের প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছেন, আয়ের জরুরি প্রয়োজনই তাদের মূল চালিকাশক্তি। অন্যদিকে ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, তারা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং বার্ধক্যকে ধীর করতে কাজ করতে চান। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও সুইডেনের প্রবীণরা মূলত কাজ করতে চান কাজকে আনন্দদায়ক ও উদ্দীপনাপূর্ণ মনে করেন বলে অথবা তারা তাদের আজীবনের দক্ষতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগাতে চান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে জাপানের মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৭ শতাংশই ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ। এ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের হার টানা ২২ বছর ধরে ক্রমাগত বাড়ছে।
এদিকে জাপানে প্রবীণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্রাসের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা প্রবীণদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০২০ সালের সমীক্ষায় ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া ১৩ শতাংশ জাপানি প্রবীণ মনে করেন, তারা ছোটখাটো দৈনন্দিন কাজের জন্য বন্ধু বা প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভর করতে পারেন। এ হার অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জাপানের প্রবীণরা পরিবারের বাইরে অন্যদের কাছ থেকে সহায়তা পেতে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।